Home / খেলাধুলা / লো স্কোরিং ম্যাচেও জেতাতে পারে যে ছক!

লো স্কোরিং ম্যাচেও জেতাতে পারে যে ছক!

২১১! মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়া ৪৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। তাও আবার এটি ২০১৮-র ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের স্কোর। এই মাঠে তিনবার দুই শ পেরোনো স্কোরের দুটিই স্বাগতিকদের। যদিও সার্বিক পরিসংখ্যান এ রকম বিশাল পুঁজিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে করায়। কারণ এই মাঠে আগে ব্যাট করা দলের গড় স্কোর ১৫২! পরে ব্যাট করা দলের ক্ষেত্রে যা আরো কম, মাত্র ১৩০! মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হাই স্কোরিং ম্যাচ দেখার সম্ভাবনা যে কম, পরিসংখ্যানও সে বিষয়ে আগাম বার্তাই দিয়ে রাখছে।

সম্ভাবনা বেশি থাকত, যদি এই সিরিজ সামনে রেখে স্বাগতিকরা গতিশীল উইকেট বানানোর বন্দোবস্তে যেত। অবশ্য অতীতে অনেক চেষ্টা করেও মিরপুরের উইকেটের চরিত্র বদলানো যায়নি। বরং এখানকার উইকেটে ব্যবহৃত মাটির ধরনের কারণেই তা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তাই এমনকি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সময় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটেও যেখানে দেদার রান হয়েছে, সেখানে মিরপুরে বড় স্কোরের ম্যাচ হয়েছে তুলনায় খুব কমই।

তা ছাড়া এই সিরিজ সামনে রেখে প্রাণবন্ত উইকেট তৈরির ঝুঁকিতেও স্বাগতিক দলের যাওয়ার কথা নয়। কেন? বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কথা থেকেই তা অনুমান করতে পারেন, ‘ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতার অভাব থাকতে পারে, তবে এই অস্ট্রেলিয়ার বোলিং কিন্তু পুরো শক্তিরই।’ কাজেই এখানে মিচেল স্টার্কের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণকে নিশ্চয়ই বাড়তি সুবিধা করে দিতে চাইবে না বাংলাদেশ।

তাই যাওয়ার কথা পুরনো ফর্মুলাতেই—ধীরগতির উইকেট, যেখানে বল থেমে ব্যাটে আসবে। ফাহিম তাই বড় স্কোর দেখার আশা ছেড়েই দিচ্ছেন, ‘আমরা যদি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখি, (মিরপুরে) অনেক রান কিন্তু হয়নি। ১৪০ বা ১৫০ হয়। অন্য অনেক জায়গায় আমরা যেটি দেখি, অবলীলায় ১৮০-৯০ রান হয়। এখানে হয়তো তা হবে না। হলেও সর্বোচ্চ ১৭০। সেই চ্যালেঞ্জটি আমাদের নিতে হবে।’

অর্থাৎ স্বল্প পুঁজিতেও জেতার চ্যালেঞ্জ মাহমুদ উল্লাহদের নিতে বলছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক এই চাকুরে। অবশ্য এমন উইকেটেও স্বাগতিকদের কিছুটা প্রতিবন্ধকতা দেখেন তিনি। সেটি দলে কোনো ‘পাওয়ার হিটার’ না থাকার, ‘আলগা বল যেমন—ফুলটস বা শর্ট পিচড, ওরা চাইলেই ছক্কা মারতে পারে। আমরা কিন্তু চাইলেই ছক্কা মারতে পারি না। পাওয়ার হিটার না থাকার সমস্যা হলো এখানেই। এটুকু সুবিধাই হয়তো অস্ট্রেলিয়ার থাকবে। ওরা যদি তা নিতে পারে। না হলে হাই স্কোরিং ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

লো স্কোরিং ম্যাচ হলেও তাতে বাংলাদেশের জেতার খুব ভালো সম্ভাবনা দেখেন ফাহিম, ‘অভিজ্ঞতার ঘাটতির পাশাপাশি উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যে বিষয়টি আছে, তাতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের একটু ভুগতে হতে পারে। কারণ ওয়ানডেতে তবু একটু মানিয়ে নেওয়ার সময় পাওয়া যায়। টি-টোয়েন্টিতে যা একদমই পাওয়া যায় না। বল খরচ করে যে মানিয়ে নেবে বা উইকেট বোঝার চেষ্টা করবে—এই সুবিধাটা আমরা নিতে পারি। আমরা যদি ভালো বল করতে পারি, ওদের হয়তো একটু বেশি সময় নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমাদেরও জেতার বেশ ভালো সুযোগ থাকবে।’

Check Also

মেসিকে তুলে নেওয়ায় সমালোচিত হয়ে যা বললেন পিএসজি কোচ!

ফ্রেঞ্চ লিগে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে লিওনেল মেসি কে দলে ভিড়িয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *